
বাংলাদেশে অবৈধ ইউনুস সরকারের আইসিটি ট্রাইব্যুনালের তথাকথিত বিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে আয়োজিত বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে প্রবাসী মানবাধিকার সংগঠন ভয়েজ ফর হিউম্যান রাইটস (VHR)। সংগঠনটি এই প্রহসনমূলক ট্রাইব্যুনাল এবং অবৈধ সরকারের মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে “গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের ঘৃণ্য চক্রান্ত” বলে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানায়।
সমাবেশে উপস্থিত হয়ে একে একে বক্তব্য রাখেন VHR-এর কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বিশেষভাবে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ফজলে রাব্বী স্মরণ তার বক্তব্যে বলেন, “এটি শুধু একজন ব্যক্তির বিচার নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত। ইউনুস সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে যা করছে, তা পুরো জাতিকে দাসত্বে পরিণত করার পরিকল্পনা।” সভাপতি আবু জেহাদ তার বক্তব্যে সরকারকে চরম স্বৈরাচারী ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলেন, “জনগণের ভোট ছাড়াই গঠিত এ সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ভয় ও নির্যাতনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। আইসিটি ট্রাইব্যুনাল এখন একটি কুৎসিত রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে আরও বক্তব্য দেন—শাকিল আহমেদ সুহাগ – সিনিয়র সহ-সভাপতি, বাবুল তালুকদার – সহ-সভাপতি, মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ – সভাপতি (ইঁদুর ইউনিট), মো. দোলাল মিয়া – সহ-সভাপতি, শোরভ চৌধুরী – সাংগঠনিক সম্পাদক, তানিম আহমেদ – অর্থ সম্পাদক, লুকমান হেকিম – দপ্তর সম্পাদক, হাবিবুর রহমান – যুগ্ম সম্পাদক, শাহান মিয়া – প্রচার সম্পাদক।

বিশেষভাবে মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে দৃপ্ত বক্তব্য দেন ICT বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব হোসাইন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আইসিটি ট্রাইব্যুনাল এখন মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় হুমকি। এই ট্রাইব্যুনাল বিচার নয়, প্রতিশোধের হাতিয়ার। এখানে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে রাজনৈতিক মত প্রকাশকারীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এটা ডিজিটাল নির্যাতনের এক নতুন রূপ, যেখানে জনগণের বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশ এবং স্বাধীন চিন্তা—সব কিছুকে বিপন্ন করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যে প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেই প্রযুক্তি আজ দানবে রূপ নিয়েছে। যারা সরকারের বিরুদ্ধে সত্য বলে, তাদেরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শুধু অবৈধ নয়, এটি মানবাধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আহ্বান জানাই—এই ICT ট্রাইব্যুনালকে অবৈধ ঘোষণা করে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হোক।”
তাদের পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন সাহান আহমেদ সাহেন, শাহজান আহমেদ, মোঃ রনি, মাহিন উদ্দিন আহমেদ সৌরভ – যুগ্ম ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে, ইমান আহমেদ – সহকারী সচিব, আলীনুর আলম – সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, আরিফুল হক – সহকারী সচিব, সোগির আহমেদ – সহকারী সম্পাদক, লাদেন হাসান – জনসংযোগ সম্পাদক, মরিয়ম বেগম – মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সুমি বেগম – উপ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, তুফায়েল আহমেদ – সহ-সভাপতি, মামদুদুল করিম চৌধুরী – যুগ্ম সম্পাদক, কামরুল ইসলাম – প্রচার সম্পাদক, মোহাম্মদ মিনহাজুল কবির – সহকারী সম্পাদক, কুতুব উদ্দিন – যুগ্ম সম্পাদক।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হবে। বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং বিরোধী মতকে সম্মান করার সাংবিধানিক অধিকার আজ চরমভাবে লঙ্ঘিত।
ভয়েজ ফর হিউম্যান রাইটস ঘোষণা দেয়, “আমরা প্রবাস থেকে যতদূর সম্ভব এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব। সময় এসেছে, পৃথিবীর কাছে সত্য তুলে ধরার।” বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানায়। এই কর্মসূচি ছিল কেবল একটি দিনের প্রতিবাদ নয়, এটি ছিল গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের প্রথম ধাপ।
