১৯ মার্চ ২০২৫

মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহরে সোমবার (১৭ মার্চ) রাত থেকে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সংঘর্ষে অন্তত ৩৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও পাঁচজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
সোমবার দুপুরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দল নাগপুরের মহাল এলাকায় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা আওরঙ্গজেবের ছবি এবং প্রতীকী সমাধি পুড়িয়ে দেয়। এ সময় গুজব ছড়ায় যে কোরআন শরিফ পোড়ানো হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
সহিংসতার বিস্তার
গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। মহাল, কোতোয়ালি ও গণেশপেঠ এলাকায় সহিংসতা চরমে পৌঁছায়, যেখানে হাজারখানেক মানুষ পাথর নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং দোকান ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে।
কারফিউ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ চিরুনি অভিযান চালিয়ে ৪৭ জনকে আটক করে। মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী যোগেশ কদম জানান, সহিংসতার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে তদন্ত চলছে।
প্রশাসনের আহ্বান ও বর্তমান পরিস্থিতি
মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, তবে কারফিউ এখনও বলবৎ রয়েছে। নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার জন্য প্রশাসন থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। নাগপুর শহরের অন্যান্য এলাকায় জনজীবন স্বাভাবিক থাকলেও মহাল অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ
সহিংসতার সময় চিটনিস পার্ক থেকে শুখরাওয়ারি তালাও রোড পর্যন্ত এলাকায় কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং আবাসিক ভবনগুলোকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। হনসাপুরি এলাকার এক দোকানি জানান, রাতে দোকান বন্ধ করার সময় একদল লোক গাড়িতে আগুন দিচ্ছিল। তিনি পানি নিয়ে আগুন নেভাতে গেলে তার মাথায় পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীশ সহিংসতা সম্পর্কে বলেন, “ছাভা সিনেমাটাই আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সহিংসতা আর দাঙ্গা দেখে মনে হচ্ছে এটা পূর্ব পরিকল্পিত। নির্দিষ্ট করে কিছু বাড়ি ও দোকান চিহ্নিত করে হামলা চালানো হয়েছে। তবুও মহারাষ্ট্রকে শান্ত রাখা সবারই কর্তব্য।”
নাগপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি গুজবকেই এই সহিংসতার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবি এবং বলিউডের ‘ছাভা’ সিনেমার মুক্তির পর থেকে মহারাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
