জামিল আহমেদ, লন্ডন থেকে
মঙ্গলবার, ০৪ মার্চ, ২০২৫

২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা এবং তাদের আবেদনের সাফল্যের হার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম (ইইউএএ) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৪৩ হাজার ২৩৬ জন নাগরিক ইইউ দেশগুলোতে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ৩.৯% আবেদনকারী ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইইউ দেশগুলোতে আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ষষ্ঠ স্থান দখল করেছে। এটি বাংলাদেশ থেকে ইইউ দেশগুলোতে অভিবাসন ও আশ্রয় চাওয়ার প্রবণতা এবং এর পিছনে থাকা কারণগুলো নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি করে।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি অনেককে বিদেশে আশ্রয় চাইতে উদ্বুদ্ধ করছে।
দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা অনেকের জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেককে বাস্তুচ্যুত করছে।
ইইউ দেশগুলোতে আশ্রয় নীতিগুলো ক্রমশ কঠোর হচ্ছে, যার ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই সাফল্য পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত অভিবাসন ও আশ্রয় চাওয়ার পিছনে থাকা মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য কাজ করা।
ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা জোরদার করা যাতে অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো যায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিশ্চিত করা।
এই পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত যে, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা না গেলে অভিবাসনের এই প্রবণতা বাড়তে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
