জামিল আহমেদ, লন্ডন থেকে

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নে হাবিবুল্লাহ তালুকদার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রোজাদারদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ২০ রমজান, শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেল ২টায় তেঘরিয়া তালুকদার বাড়িতে এই উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রোটারিয়ান আলহাজ্ব আতাউর রহমান। যুক্তরাজ্য গ্রেটার ম্যানচেস্টারের কমিউনিটি নেতা, বিশিষ্ট কবি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মুহিবুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবক রাহিন তালুকদার ও সৈয়দ হিলাল আহমদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
বক্তারা হাবিবুল্লাহ তালুকদার ফাউন্ডেশনের এ মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি সমাজে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার পরিবেশ গড়ে তোলে। তারা আরও বলেন, ব্যক্তি বা পরিবার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা সমাজের বিত্তবানদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক হাজী সৈয়দ আওলাদ আলী, আব্দুস সালাম, আব্দুর রহীম, বাবুল আহমেদ, শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলে আহমদ, সৈয়দ খাজল মিয়া, আবু তাহের, সাংবাদিক আব্দুল হাই, মাওলানা সৈয়দ মনোয়ার আহমদ, শাহিন মিয়া তালুকদার, মোস্তাকিম আহমদ, ছাত্রনেতা জঙ্গীনুর আহমদ জিবান, মোয়াজ তালুকদার, মাহির সৌরভসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নেতৃবৃন্দ।
তেঘরিয়া জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম মাওলানা জুনায়েদুর রহমান দোয়া পরিচালনা করেন। তাঁর কণ্ঠে ফুটে ওঠে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং এই ধরনের সেবামূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কামনা।
অনুষ্ঠানের শেষে দুই শতাধিক রোজাদারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। উপহার সামগ্রীতে ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপযোগী বিভিন্ন উপকরণ, যা অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য রোজার শেষে এক অনন্য উৎসবের বার্তা নিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য, তেঘরিয়া তালুকদার বাড়ির মরহুম হাবিবুল্লাহ তালুকদারের স্মরণে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সংগঠনটি শুধুমাত্র ঈদে নয়, বছরজুড়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় নানা কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষাসহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, বন্যাদুর্গতদের সাহায্য এবং শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ সমাজের নানা স্তরে ইতিবাচক অবদান রাখছে এই ফাউন্ডেশন।
মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই ধারাবাহিকতা দেখে এলাকাবাসীও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই ফাউন্ডেশন সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

হাবিবুল্লাহ তালুকদার ফাউন্ডেশন শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি একটি আদর্শ—যা মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসার, পাশে দাঁড়ানোর এবং একটি মানবিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়। এই মহতী উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক, ছড়িয়ে পড়ুক দেশের প্রতিটি অঞ্চলে—এই প্রত্যাশা সকলের।
